ঢাকায় ধর্মানুষ্ঠানের স্থান

ঢাকাতে হিন্দু সাধারণের ধর্মানুষ্ঠান জন্য উপযুক্ত স্থান নাই। ঢাকেশ্বরীর বাড়ি সহরের অধিকাংশ লোকের পক্ষে অগম্য। অধিকাংশ লোকের সুবিধাজনক একটিও স্থান কেন নাই, তাহার উত্তর সর্বজনপরিজ্ঞাত। ঢাকায় বাসিন্দা ভদ্রলোক কেহ নাই। যাঁহাদিগকে ভদ্রলোক না বলিলে হয় ত রাগিয়া অগ্নিশর্মা হইবেন, এমন মৌখিক ভদ্র হয় ত ঘরে ঘরেই আছে। এই ভদ্র মহাশয়দিগের কার্যে শৌওকের শ্রীবৃদ্ধি, বেশ্যার বাড়ি হর্ম নিকেতন, আর বিড়ার কুত্তার বিবাহে লাক টাকা ব্যয় দেখিতে পাওয়া যায়, কিন্তু যাহা করিলে সাধারণের ধর্মলাভ হয়, যদ্বারা ধার্মিক সমাজে চিরস্মরণীয় হওয়া যায়, এমন কার্য একটিও দেখিবার উপায় নাই । এই স্থানে এই ৫/৭ শত বৎসর মধ্যে কত সহস্র বড়লোক জন্মিয়াছে, কিন্তু তিন পুরুষ পরে যে, লোকে নাম করিবে, এমন কার কি কীর্তি আছে? যেমন লক্ষ লক্ষ নির্ধন এই ভূমিতে মিশিয়া গিয়াছে, তদ্রূপে সেই অগণিত ধনের ভাণ্ডারিগণও এই মাটিতে অচিহ্নিত হইয়া রহিয়াছে; সে প্রচুর অর্থের স্বার্থকতা কি এই? অবশ্য বিদেশ হইতে ভিখাই রাম ঠাকুর আসিয়া লক্ষ্মীনারায়ণের কৃপায় কয়পুরুষ আপনার নাম রাখিতে সমর্থ হইয়াছেন। জন্মাষ্টমীর জন্য রাম সরদার ও কৃষ্ণচন্দ্র সরদারের নামও কিছুদিন থাকিবে, বোধ হইতেছে; কিন্তু সমস্ত ঢাকাবাসীর পক্ষে ইহাই কি প্রচুর? যাহারা বেশ্যার জন্য বৃথা জেদ বা শখ মিটাইবার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করিতে পারে, তাহারা ১৫/২০ হাজার টাকা ব্যয় বা স্বার্থত্যাগ স্বীকার করিয়া কি সাধারণ ধর্মঢাকা কলেজিয়েট স্কুলকার্যের জন্য একটি বাড়ি করিয়া দিতে পারে না? দেখিতেছি, যেমন মুক্তাগাছার প্রাতঃস্মরণীয় লক্ষ্মীদেব্যা দ্বারা ময়মনসিংহের দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠিত হওয়াতে ময়মনসিংহের গৌরব রক্ষা পাইতেছে তদ্রূপ অন্য স্থানের কোন্ ধার্মিক ব্যক্তি দ্বারা ঢাকায় এইরূপ ধর্মমন্দির প্রতিষ্ঠিত হইলে তবে ঢাকাবাসীর নাম রক্ষা পাইবে। সম্প্রতি আমাদিগকে কোন মহাশয় জানাইয়াছে, তাহার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রয় করিয়া যে দশ সমস্র টাকা হইবে, তাহা সমস্ত দ্বারা এই ধর্মমন্দির প্রতিষ্ঠিত করিতে পারিলে তিনি অকাতরে অবিলম্বে তাহা দিতে সম্মত আছেন। কিন্তু এই কার্য দশ হাজার টাকায় নির্বাহ হওয়া সন্দেহস্থল ; ধর্মসভার বিবেচনায় এজন্য বিশ সহস্র টাকা লাগিবে। অতএব তাঁহার দশ সহস্র টাকা গ্রহণ করিলে তৎসহ অন্যান্য ব্যক্তি হইতে বাকী টাকা সংগ্রহ করিতে হইবে, সুতরাং কেবল তাঁহার নামে ঐ ধর্মমন্দির প্রতিষ্ঠা করা সঙ্গত হইবে না। পক্ষান্তরে আমরা দেখিতেছি, এমন একটি কার্যের জন্য—যাহার ফল ঢাকার ৮২০০ অধিবাসী নিত্য ভোগ করিবে, এবং ঢাকায় আগন্তুক অন্যান্য স্থানের লক্ষ লক্ষ লোক উপকৃত হইবে, এমন ধর্মকার্য দ্বারা আপনার নাম চিরস্মরণীয় করিতে ২০ হাজার টাকা ব্যয় স্বীকার করা অনেকেই শ্লাঘ্য মনে করিবেন। আমরা আশা করি, এই মহৎ কার্যে যাঁহারা সমুৎসুক তাহারা অচিরে আমাদিগকে পত্র দ্বারা জানাইয়া বাধিত করিবেন। তাঁহারা অত্রত্য ধর্মসভার হতেই টাকা দিউন—অথবা নিজ লোক দ্বারা উপযুক্ত স্থলে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত করুন। উভয় প্রকারেই এই মহৎ কার্য সম্পাদন করিতে পারেন। যে সভা বিক্রমপুরস্থ কুলীন সমাজের প্রধান ব্যক্তি নবাব সরকারের দেওয়ান বাবু চন্দ্রকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় ও ভাওয়াল রাজমন্ত্রী বাবু কালীপ্রসন্ন ঘোষ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ দ্বারা পরিচালিত হইতেছে, তাহাতে, ঐ জন্য অর্থ প্রদানে উদ্দেশ্য সিদ্ধির পক্ষে কোনই সন্দেহ নাই।

ঢাকা প্রকাশ, ৩১ জানুয়ারি ১৮৯২

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice